'চওকা' গ্রামের দুঃস্বপ্নের সুর মারণ ডাহুকার ডাক, যার মূর্ছণায় গ্রামবাসীদের ওপর নেমে আসে ঘন কালো অন্ধকার | Bangla Golpo Horror | Scary Horror Story in Bengali | Bangla Horror Story
কোন অভিশাপ নেমে আসে 'চওকা' গ্রাম-এর ওপর, যা তাদের ঠেলে দেয় অন্তের অতলে? একসময়কার অধিক জনবহুল এই গ্রামে কেন বর্তমানে জনসংখ্যা মাত্র চার? ডাহুকা কে? কিসের রাগ তার গ্রামবাসীদের ওপর? কেনকোন বহিরাগত গ্রামে চলে এলে রাতের অন্ধকারে জেগে ওঠে নরপিশাচের দল, শুরু হয় নিরবিচ্ছিন্ন ধ্বংস? আজই পড়ে ফেলুন অরিত্র দুর্জ্জয় দাসের লেখা এই ডার্ক ফ্যান্টাসি হরর-
![]() |
| মারণ ডাহুকার ডাক |
পড়ুন অরিত্র দুর্জ্জয় দাসের একটি বাংলা ঐতিহাসিক অ্যাডভেঞ্চার গল্প 'রুদ্রভৈরবের পদধ্বণি'-
মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর সদর-শহর থেকে মাত্র চল্লিশ কিলোমিটার দূরে 'চওকা' গ্রাম, অথচ এখানকার জনসংখ্যা মাত্র চার! চারজন প্রবীণ মানুষ বসবাস করে এই গ্রামে, যেখানের নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকও এখানে বসবাস করতেন আড়াই হাজারের বেশি মানুষ! কি ঘটল এখান, যার জন্য গোটা গ্রাম এভাবে ফাঁকা হয়ে গেল?
এর পিছনে অন্যতম একটি কারণ প্রাচীনতম একটি অভিশাপ!
হরধণু ভাঙবার পর কি হতে পারে তার পরিণতি? লেখক অরিত্র দুর্জ্জয় দাসের কলমে ঐতিহাসিক মিথলজিক্যাল অ্যাডভেঞ্চার কাহিনি 'পিণাকের রুদ্রভেরী'-
হাজার বছর আগে ঐ অঞ্চলটি যখন সাঁওতাল-অধ্যুষিত ছিল তখন কোন এক অপকর্মের শাস্তি পান এক মা ও তার তিন মেয়ে। তাদের বন্দী রাখা হয় দেবতাদের একটি মন্দিরে, ওখানেই অনন্তবাসের শাস্তি পান এরা চারজনেই, বলা হয় মানুষের সীমাহীন লোভই একমাত্র মুক্তি দিতে পারবে তাদের! ঐ অপশক্তিগুলি একদিন মুক্তি পায়!
-“তুমি ওকে ভিতরে টেনে নিয়েছিলে সাহায্যের আশায়; তুমি নিজে আহত ছিলে, তাই ওর প্রয়োজন আছে ভেবে বাঁচতে দিয়েছিলে তুমি…এখন তো তোমার ওকে কোন প্রয়োজন নেই…ওকে এবারে মেরে ফেল…মার ওকে…মার!!”
হঠাৎ হিংস্র হয়ে উঠল পণ্ডিতের চোখমুখ; ক্ষতের ব্যথা ভুলে মুগুরটা একহাতে তুলে নিয়ে হিংস্রভাবে পিছনে চালালেন একবার, কিন্তু বাতাস কেটে বেরিয়ে গেল মুগুরটি, কোন কিছুকেই বিন্দুমাত্র স্পর্শ না করে!
-“তুমি আমাকে মারতে পারবে না!”
ডানপাশ দিয়ে কথাটি ভেসে আসায় সেদিকে এবারে মাথা ঘোরালেন পণ্ডিত; এবারে অন্ধকার ফুঁড়ে মশালের আলোর দায়রায় হঠাৎ হাওয়ায় একেবারে তার মুখের সামনে ভেসে এল অপরূপা সুন্দর এক রমণীর মুখ! চমকে উঠলেন পণ্ডিত, তার হাত থেকে মশাল ও মুগুর- দুটিই পড়ে গেল মাটিতে…পরক্ষণেই মশালের আলো নিভে গিয়ে অন্ধকারে ঢেকে গেল সম্পূর্ণ ঘরটি, কয়েক মুহুর্ত্তের জন্য কার্যত কানা হয়ে গেলেন তিনি!
মুক্তি পাওয়া ঐ চার অভিশপ্ত আত্মার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতিহিংসা, সেইসাথে বুকের ভিতর জমে থাকা হাজার বছরের পাথরচাপা ক্ষোভ! বিবেকের দংশন কাজ করে নি তাদের মধ্যে কোনভাবেই, আর এই ব্যাপারটাই ফুটে ওঠে তাদের বলা কথাগুলির মধ্যে-
-“আমার নাম ডাহুকা, আর আমি এবং আমার তিন বোনেরা তোমাদের, মরণশীলদের মাঝখানে এসেছি তোমাদের সকল বাধা নির্মূল করবার উদ্দেশ্য নিয়ে-”
ডাহুকার কথা শেষ হতেই এবারে তিনটি অল্পবয়ষ্ক, কালো শাড়ি পরা মেয়েকে দেখা গেল গ্রামবাসীদের মাঝখানে চলেফিরে বেরাতে…এরা কারা, কোথা থেকে এলেন তা অবশ্য মনে করতে পারলেন না কেউই। আরও একবার মিষ্টি হেসে ডাহুকা বললেন-
-“যুগের পর যুগ ধরে তোমাদের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিগুলিকে যেন চেপে আটকে রাখা হয়েছে; খুন-জখম-অপরাধ-ব্যভিচার-লোভ-হিংসা-ঘৃণা- মানুষের এই প্রবৃত্তিগুলি যে খারাপ তা কে বলল? মানুষ জম্মেছে এই গুণগুলি নিয়ে, তাহলে তা চেপে বেঁধে রাখতে হবে কেন? আগল খুলে দাও…দ্যাখো, জগৎ কত প্রাণবন্ত, কত মধুর-”
-“কখনই না! এই পথ ঈশ্বরের বিধানের উল্টো পথ! এই পথ মানুষকে নিয়ে চলে ধ্বংসের দিকে-”
-“যাকে চোখে দেখা যায় না, তার বিধান কি, পুরুত? কে বয়ে নিয়ে এসেছে সেই বিধান? সেই বিধানের মূল্য কি? অহেতুক গ্রামবাসীদের ভুল বুঝিও না ব্যক্তিগত স্বার্থে-”
মানুষের মনের ভিতরে শিকড় গেড়ে বসা অন্ধকার প্রবৃত্তিগুলিকে অবলম্বন করে বেড়ে ওঠে এই অন্ধকারের শক্তিগুলি; ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যায় চওকা গ্রাম! মানুষের অভাবেই বহিরাগতের ওপর আক্রমণ চালাতে থাকে অপশক্তিগুলি-
-“নিখিল, দেখ তো এবারে গাড়িটাকে নিয়ে এগনো যায় কি না…সন্ধ্যা নামার আগেই এখান থেকে চলে যাওয়াটাই মঙ্গল…কিছু একটা ঘটছে যা আমার ঠিক ভালো লাগছে না-”
উদেশের হাত থেকে কাঁটাটা তুলে নিয়ে কথাগুলি বললেন ডোনা, সকলে আর কোন কথা না বলে উঠে বসলেন গাড়িতে। কিরকম একটা অমঙ্গলের ছাপ নেমে আসছিল চারদিকে, যা ঠিক সুবিধার নয়! সূর্য অস্ত গিয়েছে বটে, কিন্তু দিনের আলো এখনও থাকতেও এই বিষণ্ণ অন্ধকার, এই নিঃঝুম পরিবেশ…সর্বোপরি গাড়ির এই দূরবস্থা- কি চলছে এখানে?
ফার্স্ট গিয়ারে রেখে ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল গাড়ি, এ ছাড়া কোন উপায় নেই…গাড়ির চাকা ধীরে হলেও যে গড়াচ্ছে সামনের দিকে এতেই মঙ্গল, বেশি স্পিড তুললে যদি এখন বাঁদিকের চাকা কাজে ইস্তফা দেয় তাহলেই অনর্থ! ডোনা একটু সরে বসে ছিলেন ডানদিক ঘেঁষে যাতে বাঁদিকের চাকায় চাপ কম পড়ে, গাড়িও এগোচ্ছিল ঢিমেতালে সামনে, কিন্তু-
একটি মোড় ঘুরতেই হঠাৎ ছন্দপতন! আবার একটি টায়ার ফাটবার শব্দ ভেসে এল সামনের দিক থেকে…ডানদিকের চাকাটি দেবে বসে গেল, গাড়িও দাঁড়িয়ে পড়ল সাথে সাথে! শুকনো মুখে গাড়ির সবকটি যাত্রী এবারে তাকালেন একে অপরের দিকে…এখন কি হবে?
এটাই আসল প্রশ্ন- কিভাবে থামানো সম্ভব এই অপশক্তিগুলিকে? সাধারণ অস্ত্রের দ্বারা অবধ্য এই পিশাচের দল, কামনার অস্ত্রে বলীয়ান এরা, কোন উপায়ে থামানো সম্ভব এদের? কিভাবে বেঁচে ফিরবেন প্যারানর্ম্যাল রিসার্চারের দলটি, 'চওকা' গ্রামের ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে?

মন্তব্যসমূহ